ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: কোটালীপাড়া উপজেলা ,গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার মুশুরিয়া পদ্মবিলে মাঝিদের হামলায় সুব্রত বিশ্বাস (২৫) নামে এক পর্যটক আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে কোটালীপাড়া উপজেলার মুশুরিয়া পদ্মবিলের জহরেরকান্দি জয়ধরবাড়ী ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
সুব্রত বিশ্বাসকে স্থানীয়রা চিকিৎসকেরা কোটালীপাড়া ১০০ শয্যা হাসপাতালে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
সুব্রত বিশ্বাস বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের সুনীল বিশ্বাসের ছেলে।
সুব্রত বিশ্বাসের সঙ্গে থাকা পর্যটক সত্যজিত বিশ্বাস বলেন, শুক্রবার বিকেলে তারা মুশুরিয়া পদ্মবিলের জহরেরকান্দি জয়ধরবাড়ী ঘাটে ঘুরতে যান। সেখানে ঘাটের মাঝিদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাঝিরা তাদের মোটরসাইকেলের তেলের লাইন ও পিকআপের তার ছিঁড়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে আবারও কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাঝিরা সুব্রতকে মারধর করেন। এতে তিনি আহত ও রক্তাক্ত হন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পাভেল সমদ্দার, বাদল বাড়ৈ, সোনাতন বৈদ্য ও সজিব বৈরাগী বলেন, তারা ভ্যানযোগে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজনকে এক যুবককে মারধর করতে দেখেন। পরে ওই যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় বিদ্যুৎ জয়ধর, পিতা বঙ্কিম সরদার; অনিক জয়ধর, পিতা অরুণ জয়ধর এবং হৃদয় জয়ধর, পিতা রমেন জয়ধরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুশুরিয়া পদ্মবিলের জহরেরকান্দি জয়ধরবাড়ী ঘাটের কয়েকজন মাঝির বিরুদ্ধে এর আগেও পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। নৌকার ভাড়া, ঘাটে যাতায়াতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যটকদের সঙ্গে মাঝিদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
মুশুরিয়া পদ্মবিলে দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য দুটি ঘাট রয়েছে। এর মধ্যে মুশুরিয়া বৈষ্ণববাড়ী ঘাটটি দীর্ঘদিনের পুরোনো ও পরিচিত ঘাট। এ ঘাটে নিয়মিত দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। অপরদিকে জহরেরকান্দি জয়ধরবাড়ী ঘাটেও বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা পদ্মবিলের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। তবে এ ঘাটের কয়েকজন মাঝির বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সেখানে ঘাটের মাঝিদের সঙ্গে পর্যটকদের বিরোধ, হয়রানি কিংবা হামলার মতো ঘটনা ঘটলে তা পুরো এলাকার পর্যটন পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ঘাটগুলোতে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ভাঙ্গারহাট পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সিরাজ হোসেন বলেন, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। তবে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
# এফ এম মিরাজুল সৈকত , ১৯.০৯.২০২৬
০১৮১১৯৫৩২৬১