ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনার অংশ ছিল। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং জনগণের ভোটে সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি সরকার ও বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক ও আবেগঘন দিন।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্য থেকেই এই কার্ড চালু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ল্যাপটপের বাটন চেপে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কয়েকজন নারী উপকারভোগীর হাতে প্রতীকীভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহেদুজ্জান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হলো। এই কার্ড নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারাজানা শারমনীন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড এখন আর স্বপ্ন নয়—এটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে এবং এটি মানুষের জন্য আস্থা ও ভরসার প্রতীক হয়ে উঠবে।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এই অর্থ উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে, ফলে তারা ঘরে বসেই ভাতা পেতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসে মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, যেসব নারী পরিবারপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা পান, তারা এই কর্মসূচির আওতায় ভাতা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের চলমান ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।
এ ছাড়া পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে, বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকলে, বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা এসি থাকলে কিংবা পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলে ওই পরিবার এই ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবে না।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।


