ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পুনরায় শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলমান ছিল।
সংঘর্ষে জড়ায় হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে একই ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের লোকজন। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও গ্রামবাসীসহ অন্তত ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে মনসুরাবাদ ও পাশের তিন গ্রামের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সর্বশেষ ঈদের চাঁদ রাতে পটকা ফাটানো ও ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে শুক্রবার বিকেলে মনসুরাবাদ বাজারে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও শনিবার সকালে আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে মনসুরাবাদ বাজারের কয়েকটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় পুলিশকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১৯ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। এর মধ্যে ১১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের বিস্তার মনসুরাবাদ বাজার ছাড়িয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকাতেও পৌঁছায়। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে লিপ্ত থাকে।
ভাঙ্গা থানার পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, তারা সংঘর্ষ থামাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
@ইয়াসমিন রিমা


