ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ নয় বছর পর প্রথমবারের মতো একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমান (৫২) সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। আদালত তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার বিকেলে তাঁকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মো. মমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত সূত্র জানায়, তনু হত্যাকাণ্ডের সময় হাফিজুর রহমান কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি অবসর নেন। এর আগে আদালতের নির্দেশে সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হয়, যার একজন ছিলেন হাফিজুর। অপর দুজন হলেন তৎকালীন সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম, যাঁরাও বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত।
মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেন দাবি করেছেন, ‘শাহীন’ নয়, অভিযুক্ত সৈনিকের নাম ‘জাহিদ’। শুরু থেকেই তাঁরা এই নামটি বলে আসছেন বলে জানান তিনি।
পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। তদন্তের অগ্রগতিতে এ গ্রেপ্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুই দফা ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। ২০১৭ সালে তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনায় তিনজন পুরুষের ডিএনএ পাওয়া যায়, যা এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
@ইয়াসমিন রিমা