রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল-এর বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
শুনানিকালে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সোহেল রানা দাবি করেন, তিনি ধর্ষণ করেননি। তার ভাষ্য, “আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন।” তবে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে ডলার নামে কারও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
আদালতে আসামিদের নিরাপত্তার মধ্যে হাজির করা হয়। শুনানির সময় স্বপ্না আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ সদস্যরা তাকে পানি পান করান। পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পড়ে শোনালে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে জানায়, দ্রুত সময়ের মধ্যেই মামলাটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে রামিসাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায় স্বপ্না। পরে সোহেল শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে ঘরের ভেতর থেকে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল হত্যার দায় স্বীকার করেছিলেন বলেও জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
@ইয়াসমিন রিমা