ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: রাজশাহীর আলোচিত এক ঘটনায় নিজের প্রকৃত পরিচয় ও শেকড়ের সন্ধানে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন ক্লাউডিয়া চৌধুরী। জন্মের পর থেকে ডা. শিপ্রা চৌধুরী ও প্রয়াত ডা. ওবায়দুর রহমান চৌধুরীকেই বাবা-মা হিসেবে জেনে বড় হলেও ২০২৩ সালে তিনি জানতে পারেন, তারা তার জৈবিক বাবা-মা নন।
ক্লাউডিয়ার অভিযোগ, এ তথ্য জানানোর পর তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং তার অজান্তেই জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিতে বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করা হয়। নতুন করে যাদের নাম তার পরিচয়ে যুক্ত করা হয়েছে, তাদের তিনি কখনো চিনতেন না বলেও দাবি করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ক্লাউডিয়ার জন্মনিবন্ধনে বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করা হয়। তবে জন্মসনদে মা হিসেবে উল্লেখ থাকা টগরী বেগমও দাবি করেছেন, ক্লাউডিয়া তার গর্ভের সন্তান নন।
অন্যদিকে, ক্লাউডিয়ার জৈবিক বাবা হিসেবে পরিচিত মো. বাবুল জানান, শিশুকালে মেয়েটিকে ভালোভাবে মানুষ করার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ বছর তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না। বর্তমানে হঠাৎ করে তাকে মেয়ের বাবা হিসেবে সামনে আনা হলেও ক্লাউডিয়া তাকে চেনেন না।
এ ঘটনায় উত্তরাধিকার সম্পত্তি ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে বলে জানা গেছে। ক্লাউডিয়ার নামে দেওয়া ৫ কাঠা জমি নিয়েও আইনি বিরোধ চলছে।
এ বিষয়ে ডা. শিপ্রা চৌধুরী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তবে আইনজীবীরা বলছেন, জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়।
বর্তমানে ক্লাউডিয়ার একটাই প্রশ্ন “আমি আসলে কে?”। তার দাবি, প্রকৃত পরিচয় জানার অধিকার এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা হোক।
@ইয়াসমিন রিমা