ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: অফিস কক্ষে বসে আছেন প্রধান শিক্ষক ও চারজন সহকারী শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষে নেই কোনো শিক্ষার্থী। যে সময় বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকার কথা, সেই সময়ে বিরাজ করছে সুনশান নীরবতা। বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) এ ঘটনা ঘটে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ১৫৬ নং চিতশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
সকাল ১১টায় সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম শিফটের প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান চলার কথা থাকলেও বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীও উপস্থিত নেই। শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষকরা অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলেন। দুপুর ১ টার সময়ও দেখা যায় বিদ্যালয়ে আসেনি দ্বিতীয় শিফটের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কোন শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিসুর রহমান বলেন, “সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে না দিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে দেন।”
শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে না আসার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জোসনা বেগমের সঙ্গে গ্রামের এক যুবকের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি তাদের হাতেনাতে ধরার দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা পর্যন্ত তারা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাবে না। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জোসনা বেগমকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক জোসনা বেগমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবারের এক সদস্য অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, “তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
স্থানীয় অভিভাবক জাকির শেখ বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক জোসনা ম্যাডামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের জগলুল মুন্সীর ছেলে রিয়াজুল মুন্সীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত ২০ জুন রাতে আমরা তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছি বলে দাবি করছি। এমন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাব না।”
আরেক অভিভাবক শরিফুল শেখ বলেন, “একজন শিক্ষক সমাজের আদর্শ। শিক্ষকদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) শেখ রঞ্জন ভক্ত বলেন, “ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযোগে নাম আসা রিয়াজুল মুন্সীকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
# এফ এম মিরাজুল সৈকত , 23.06.2026
01811953261