ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: (রাজশাহী ):
বাংলাদেশে তামাকজনিত রোগে বছরে ১ লক্ষ ৬১ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। বিপুল মৃত্যু এবং ব্যাধির উৎসমূল হওয়া সত্ত্বেও নানা ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করে তামাক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিগুলো। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণ, কার্যকর কর ও মূল্য পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ রোধে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়নের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞগণ।
তামাক কোম্পানির কূটকৌশল উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে তারুণ্যই তামাক কোম্পানির আগ্রাসী বিজ্ঞাপনের প্রধান লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত ২০১৬ সালের গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকায় বিদ্যালয়ের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধ এলাকার মধ্যে অবস্থিত মোট ৫০৭টি মুদি দোকানের ৪৮৭টিতেই চকলেট, ক্যান্ডি, কোমল পানীয় ইত্যাদির পাশেই তামাকপণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে, যা শিশুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভার্চুয়াল সভায় আরো জানানো হয়, নিকোটিনযুক্ত প্রাণঘাতি পণ্যে আকৃষ্ট করতে নানা কারসাজির আশ্রয় নেয় কোম্পানিগুলো। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের আকৃষ্ট করতে বাবলগাম, চেরি, চকলেট ইত্যাদি সুগন্ধীর ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং পণ্য বাজারজাত করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, এসব পণ্যে ১৬ হাজারের বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করছে তামাক কোম্পানিগুলো। ইউএসবি স্টিক, ক্যান্ডি, কলমসহ বিভিন্ন পণ্যের আদলে আকর্ষণীয় ডিজাইনে বাজারজাত করা হচ্ছে এসব পণ্য।
সভায় তরুণ প্রজন্ম সুরক্ষায় তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী চূড়ান্তকরণের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও তামাক কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার প্রত্যাহার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা থেকে সিগারেট বাদ দেয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তামাক ও নিকোটিন পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন, বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাইলা জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মলয় কুমার কুন্ডু, উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন সুলতানা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সেলিম আক্তার, বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারওয়ার, প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি(ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদুল হাসান মেমন, উপজেলা টাক্সফোর্স কমিটির সদস্য ও কর্তৃত্বপ্রাপ্ত সদস্যবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, এবং গণমাধ্যম কর্মী।