আন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির প্রধান আহবায়ক নাহিদ ইসলাম আগামীকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ সাক্ষ্যকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থানের সময় একাধিকবার অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। গণভবনে উদ্ধার হওয়া নথি এবং ফোনালাপে আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্বকে খুন করার নির্দেশনার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় নাহিদ ইসলামকে গুম করা হয়েছিল এবং ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। সেই দৃশ্য দেশব্যাপী ক্ষোভ ছড়িয়ে দেয় ও আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।
দ্বিতীয় দফায় মুক্তির পরও নাহিদ ইসলাম আন্দোলনের নেতৃত্ব ধরে রাখেন। তিনি প্রকাশ্যে জানান,গণআন্দোলন কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়, বরং দেশের সব রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে এগোচ্ছে। তাঁর এই অবস্থান স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত রূপ দেয়।
৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে অন্তর্বর্তী সরকারের নকশা তৈরির মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের চাপে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে নির্বাচন, বিচার ও সংস্কার এই তিন ভিত্তিতে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সরকারই যুদ্ধাপরাধ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।
আগামীকাল সেই ট্রাইব্যুনালেই সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন নাহিদ ইসলাম। পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর সাক্ষ্য শুধু একটি মামলার অংশ নয়,এটি বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব বিচারের রায় দৃশ্যমান হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।


