আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে-তারেক রহমান

ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: (রাজশাহী):আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে, আসুন আমরা উদযাপন করি প্রতিটি কন্যার স্বপ্ন দেখার, শেখার, নেতৃত্ব দেওয়ার এবং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার।

একজন কন্যাসন্তানের পিতা হিসেবে আমি জানি—কন্যাশক্তিকে ক্ষমতায়ন করা শুধু নীতির বিষয় নয়, এটি একান্ত ব্যক্তিগত অঙ্গীকার। আমাদের বাংলাদেশের স্বপ্ন এমন এক দেশ গড়া, যেখানে প্রতিটি কন্যা সেই স্বাধীনতা, সুযোগ ও নিরাপত্তা পাবে—যা প্রত্যেক অভিভাবক তাদের সন্তানের জন্য কামনা করে।

বিএনপি সরকার সবসময় মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে, এবং সুযোগ পেলে আমরা আরও বেশি করার অঙ্গীকার করছি।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেখিয়েছিলেন কীভাবে পোশাক শিল্পের বিকাশ কেবল একটি শিল্প নয়—আশার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। লক্ষ লক্ষ নারী প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক কর্মজগতে প্রবেশ করেছিলেন, অর্জন করেছিলেন আয়, সম্মান ও স্বাধীনতা। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বেই ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠিত হয়—যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের নারীদের ও কন্যাশিশুদের জীবনের সার্বিক উন্নয়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।

প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়—এটি আর কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, একটি মৌলিক অধিকার। তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য শিক্ষা বিনামূল্যে করেন, ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা’ ও ‘অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা’ কর্মসূচি শুরু করেন, যা লক্ষ লক্ষ কন্যাশিশুকে বিদ্যালয়ে রেখেছিল, পরিবারে পরিবর্তন এনেছিল, শক্তিশালী সমাজ গড়ে তুলেছিল এবং এক প্রজন্মের নারীদের ক্ষমতায়িত করেছিল।

তাঁর অগ্রণী উদ্যোগ—‘মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা সহায়তা প্রকল্প’—বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গসমতা অর্জন করে এবং বাল্যবিবাহ কমায়। এটি পরবর্তীতে মেয়েদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের একটি বৈশ্বিক মডেল হয়ে ওঠে, যা অনেক উন্নয়নশীল দেশে অনুসৃত হয়।

এইসব উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, যখন শাসনব্যবস্থা কন্যাদের মর্যাদা রক্ষা করে ও তাদের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে, তখন অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।

বিএনপির আগামীর নীতিমালা এই সম্মান ও বিনিয়োগের ধারাকে অব্যাহত রাখবে—

১. ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পরিবারের নারী প্রধানের নামে—যাতে সহায়তা সরাসরি পরিবারের মেরুদণ্ডের হাতে পৌঁছায়।
২. নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ, ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা—কারণ আর্থিক স্বাধীনতা আপসহীন অধিকার।
৩. মেয়েদের জন্য আরও উন্নত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ সুযোগ—যাতে গ্রামের কিংবা শহরের প্রতিটি মেয়ে দক্ষতা অর্জন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে।
৪. নীতিনির্ধারণে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি—রাজনীতি, প্রশাসন ও নীতিতে নারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা; নিরাপদ দেশ গড়তে এর বিকল্প নেই।
৫. মর্যাদা ও স্বাধীনতার সুরক্ষা—যাতে প্রতিটি কন্যা নির্ভয়ে চলাফেরা, কথা বলা, ইন্টারনেট ব্যবহার ও জীবনযাপন করতে পারে।
৬. পরিবার ও সামাজিক কল্যাণকে কেন্দ্র করে উন্নয়ননীতি—স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান—বিশেষ করে নারী ও কন্যাদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপ।

আমরা ফাঁকা বুলি দিই না—আমরা বলি বিশ্বাস থেকে, উত্তরাধিকারের শক্তি ও আন্তরিক অঙ্গীকার থেকে।

প্রতিটি কন্যা যে স্বপ্ন দেখে, সেই স্বপ্ন পূরণে রাষ্ট্রকে আমরা তার সঙ্গী করব—তার বাধা নয়।

উজ্জল হোসেন।
ব্যুরো প্রধান,রাজশাহী।

  • Related Posts

    সংবাদটি নিরপেক্ষ ও সংবাদপত্রের ভাষায় মাঝারি আকারে সাজিয়ে দিলাম

    ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক:  ছোটপর্দার অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিও নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। কাজল আরেফিন অমির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ…

    নেপালের বন্যায় সহায়তায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা বালেন্দ্র শাহর

    ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: নেপালে সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যায় সহমর্মিতা প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *