ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য জোট–সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে গেলে লাভ–ক্ষতির দিক নিয়ে দলের নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে সভায় উপস্থিত বেশির ভাগ নেতা বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে তৃতীয় কোনো জোট গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন।
গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ ৫১ সদস্যের অধিকাংশই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশ নেওয়া নেতাদের একজন বলেন, বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিএনপি যদি কিছু আসনে ছাড়ও দেয়, তবুও দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দাঁড়ালে এনসিপির জেতা কঠিন হবে। অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে নির্দিষ্ট মতাদর্শের ‘ট্যাগ’ লেগে যেতে পারে, যা এনসিপির মধ্যপন্থী ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে।
এনসিপির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন জানান, সভায় নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সমন্বয় সভায় সংগঠনকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আছে, এনসিপি গণতন্ত্র মঞ্চের ছয় দল ও অন্যান্য মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোতে পারে। এরই অংশ হিসেবে ৯ অক্টোবর জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় এনসিপি, এবি পার্টি ও গণ অধিকার পরিষনের নেতাদের বৈঠক হয়।
একই সঙ্গে ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে এনসিপি। ৪ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচরে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কার্যালয়ে বৈঠকে তারা একাধিক জাতীয় ইস্যুতে যৌথ অবস্থান নেয়।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা চলছে, শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর


