ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের সেনা হেফাজতে রাখার সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, এ সিদ্ধান্ত আইনের সমান প্রয়োগ ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন, “একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিচয় বা অবস্থানের কারণে বৈষম্য করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে পেশাগত পরিচয় বা পদমর্যাদা বিবেচনায় নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত অন্যদের মতো সেনা কর্মকর্তারাও যদি বেসামরিক ব্যবস্থার অধীন কারাগারে থাকতে পারেন, তবে তাদের জন্য বিশেষায়িত সাব-জেলের যৌক্তিকতা নেই। সরকারের এই বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের কেন সেনা হেফাজতে রাখা প্রয়োজন এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এমন আচরণ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করবে।”
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে সেনাবাহিনীর মোট ১৫ জন কর্মকর্তাকে সম্প্রতি সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে সোমবার সরকার ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।


