ভেতরের খবর নিউজ ডেক্স : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা পাড়ের পাঁচ জেলা—লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার মানুষ একযোগে অংশ নিয়েছেন এক ঐতিহাসিক শত কিলোমিটারব্যাপী মশাল মিছিলে। নদী–নির্ভর জীবিকা ও পুনর্বাসন–ভিত্তিক উন্নয়ন দাবি নিয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো মানুষের হাতে জ্বলে ওঠে তিস্তার আগুন–আলো, এক দীর্ঘ মানবিক শৃঙ্খলে।
আয়োজকদের ভাষ্য, এই মিছিল ছিল তিস্তা বাঁচানোর লড়াইয়ের এক নতুন অধ্যায়। স্থানীয় কৃষক, মৎস্যজীবী, শিক্ষার্থী, নারী–পুরুষসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ এতে অংশ নেন। তাঁরা দাবি জানান, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা” যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়, যাতে নদী ভাঙন, বন্যা ও দারিদ্র্য–চক্র থেকে উত্তরণ ঘটে উত্তরের মানুষদের।
তবে এত বড় ও ঐতিহাসিক আয়োজনের পরও দেশের প্রধানধারার গণমাধ্যমে এ নিয়ে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রচার দেখা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাই প্রশ্ন উঠেছে—“এত বড় আয়োজন, অথচ মিডিয়ায় নীরবতা কেন?”
স্থানীয় আন্দোলনকারীরা মনে করেন, গণমাধ্যমের এ অনুপস্থিতি “উত্তরাঞ্চলের মানুষের বঞ্চনার ধারাবাহিক প্রতিফলন”। তাঁদের অভিযোগ, “যখন রাজধানীতে কোনো ছোট অনুষ্ঠান হয়, তা ঘন্টার মধ্যেই সংবাদে চলে আসে; কিন্তু তিস্তা পাড়ের লাখো মানুষের মশাল হাতে হাঁটা,সেটি যেন কারও কাছে সংবাদ নয়।”
মিছিলের এক সংগঠক জানান, “এটি ছিল প্রতীকী নয়—বাস্তবের আন্দোলন। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন শুধু নদী নয়, গোটা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবিকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। অথচ মিডিয়ার নীরবতা আমাদের হতাশ করে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের উন্নয়ন ও পরিবেশ–সংক্রান্ত সংবাদগুলো প্রান্তিক অঞ্চলে ঘটলে সেটি অনেক সময় কেন্দ্রীয় গণমাধ্যমে প্রাপ্য গুরুত্ব পায় না। ফলে মাঠের মানুষদের দাবি ও বাস্তবতা জাতীয় পর্যায়ে প্রতিধ্বনি পায় না।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা, যা ৯৯২ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রকল্প হিসেবে আলোচিত, তার বাস্তবায়নের দাবি উত্তরাঞ্চলের মানুষের বহুদিনের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার কৃষি, যোগাযোগ ও জীবিকায় এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
কিন্তু জনগণের এমন ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দাবির পরও যখন সংবাদমাধ্যম নীরব থাকে, তখন প্রশ্নটা থেকে যায়, এই নীরবতা কার স্বার্থে?


