ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: (রাজশাহী):পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার নুরবক্স লেনের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়ি থেকে ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জুবায়েদ হোসেনের (২৩) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তিনি ঢাকার ফরাশগঞ্জে একজন আত্মীয়ের সঙ্গে মেসে থাকতেন।
লালবাগ জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, ওই ভবনের পঞ্চম তলায় বসবাসকারী ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাবনম বর্ষাকে পড়াতেন জুবায়েদ। ঘটনার পরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “জুবায়েদের সঙ্গে বর্ষার ব্যক্তিগত বা প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিনা, কিংবা অন্য কোনো সম্পর্কের জটিলতা রয়েছে কিনা— তা তদন্তের পর জানা যাবে। যেহেতু লাশ পাওয়া গেছে বর্ষাদের বাসার সিঁড়িতে, তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডিসি সামী আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—এ ঘটনায় দুইজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।
বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থী বর্ষার বাসায় পড়াতে যান জুবায়েদ। কিছু সময় পর স্থানীয়রা তৃতীয় তলার সিঁড়িতে তার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো যুক্ত জার্সি পরেছিলেন, যেখানে তার নামও লেখা ছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং বাসার সামনে বিক্ষোভ করেন।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডটি সন্ধ্যার পর ঘটেছে। কেন, কীভাবে এবং কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে— সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। হত্যার মোটিভ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে কাজ করছে তদন্তকারী সংস্থা।
উজ্জল হোসেন।
ব্যুরো প্রধান,রাজশাহী।


