ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলীয় বিভাজন ও অনিশ্চয়তার ঘনঘোরে যখন গোটা দেশ দিকহারা তখন জাতির অভিভাবক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আবারও প্রমাণ করলেন তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলতা। গণভোট, জুলাই সনদ, পিআর পদ্ধতি ও আরপিও সংশোধন নিয়ে যখন রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তখন সংকট উত্তরণের পথ দেখালেন তিনি।
গতকাল সকালে প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন। সেখানে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট-সংক্রান্ত সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের বিবৃতিতে বলা হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ ও গণভোট আয়োজন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয় যে, দলগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তা তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করবে।
বৈঠকে বলা হয়, “সরকার কাউকে কিছু চাপিয়ে দিতে চায় না। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছাবে সরকার তখন তাদের দিকনির্দেশনা অনুসারে পদক্ষেপ নেবে।” সভায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বহুমাত্রিক।
প্রথমত, প্রধান উপদেষ্টা দলগুলোর রাজনৈতিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন গণতন্ত্রের পথ তাদেরই নির্ধারণ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, তিনি দলগুলোর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে দেখিয়েছেন, সমাধান চাপিয়ে দেওয়া নয় ঐক্যের মাধ্যমে আসতে হবে।
তৃতীয়ত, সুশীল মহলের অতিরিক্ত প্রভাব বন্ধ করে রাজনৈতিক দলগুলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা দিয়েছেন, যা হবে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।
চতুর্থত, ড. ইউনূস উপলব্ধি করেছেন রাজনৈতিক বিভাজন বাড়লে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে, ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দেবে। তাই তিনি জুলাই আন্দোলনের শক্তিগুলোকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দিলেন।
সবশেষে, এই সিদ্ধান্ত জনগণের ক্ষমতায়নের পথ উন্মুক্ত করেছে। আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে জনগণ এবার দেখতে পাবে কোন দল সত্যিকার অর্থে দেশের স্বার্থে কাজ করছে।
দেশবাসীর আশা রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের কল্যাণে এগিয়ে আসবে, আর গণতন্ত্র তার সঠিক পথে ফিরে যাবে ড. ইউনূসের এই দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর