ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার জাহানারা আলম। একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, মঞ্জুরুল নারী ক্রিকেটারদের ‘মন্দ স্পর্শ’ করতেন এবং তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য–সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইতেন যা শুধুমাত্র দলের ফিজিওর জানার কথা।
জাহানারা বলেন, ২০২১ সাল থেকে পরবর্তী দেড় বছর ধরে তিনি একাধিকবার এসব বিষয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও নারী উইংয়ের উচ্চপর্যায়ে জানান, কিন্তু তবুও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধু মঞ্জুরুলই নন, আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও তিনি নিজের ক্যারিয়ার ‘ধ্বংস করার’ অভিযোগ তুলেছেন।
অন্যদিকে, সাবেক জাতীয় দলের বাঁহাতি পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সব অভিযোগকে “ভিত্তিহীন ও মিথ্যা” বলে দাবি করেছেন। বর্তমানে চীনে নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে কর্মরত মঞ্জুরুল বলেন, “আমি কখনো সরাসরি কোনো খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন করিনি। এসব তথ্য আমি সবসময় দলের ফিজিওর কাছ থেকেই জেনেছি।”
মন্দ স্পর্শের অভিযোগও তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুতির কথা জানিয়ে মঞ্জুরুল বলেন, “আমি যেকোনো সময় বাংলাদেশে এসে তদন্ত কমিটির সামনে বসতে প্রস্তুত। প্রমাণ থাকলে দেখাক।”
জাহানারার দাবি, তিনি ২০২২ সালে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীকে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তবে মঞ্জুরুলের ভাষ্য, তাঁকে এ বিষয়ে কখনোই বোর্ডের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
অভিযোগের পেছনের কারণ জানতে চাইলে মঞ্জুরুল বলেন, “আমি নিয়মশৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাবিষয়ে কঠোর ছিলাম। হয়তো সেটাই কারও ভালো লাগেনি। কিন্তু আমি সবসময় দলের স্বার্থেই কঠোর ছিলাম।”
ঘটনাটি প্রকাশের পর নারী ক্রিকেট মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিসিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও, ক্রিকেট মহলে এই অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর