ভেতরের খবর নিউজ ডেক্স: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ সোমবার ঘোষণা করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের রায়কে ঘিরে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সোমবার সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যদের টহল জোরদার দেখা গেছে। সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানও মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীতে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে বলে সূত্র জানায়।
রায় ঘোষণার আগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দুটি এস্কেভেটর দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা যায় কর্তৃপক্ষকে, আর আশপাশে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে একদল লোক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অবস্থান নেয় দ্রুতই।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় জড়ো হয়ে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করছে। তাঁরা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। সোমবার দুপুরের দিকে সেখানকার অবস্থা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সকালে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আসেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীসহ আহত ও নিহতদের স্বজনেরা। অনেকেই রায় ঘোষণার আগে ন্যায়বিচারের আশায় অবস্থান নেন।
ট্রাইব্যুনাল এজলাসে আজ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে রায় ঘোষণা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের হওয়া প্রথম মামলার রায় হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ বিরাজ করছে।
এখন সবার দৃষ্টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দিকে রায়ে কী আসছে, তা জানতেই অপেক্ষা সবার।
@ইয়াসমিন রিমা


