ভেতরের খবর নিউজ ডেক্স: ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া প্রথম মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে আজ সোমবার। ৩৯৭ দিনের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনাল–১ শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
রায়ের সময় আল–মামুন আদালতে উপস্থিত থাকলেও শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁরা পলাতক থাকায় তাঁদের দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম (আওয়ামী লীগ) আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আন্দোলনের সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। পুনর্গঠনের পরই ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম “মিসকেস” হয় এবং সেদিনই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
প্রথমে একমাত্র আসামি ছিলেন শেখ হাসিনা। পরে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১৬ মার্চ মামলায় যুক্ত করা হয় সাবেক আইজিপি আল–মামুনকে। ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর আসামির তালিকায় যুক্ত হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও। ১ জুন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে মামলাটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।
১০ জুলাই অভিযোগ গঠনের পর আল–মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ার আবেদন করেন। এরপর ৩ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় বিচার। মামলায় পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়
* উসকানিমূলক বক্তব্য,
* প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ,
* বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা,
* চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা,
* আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।
প্রথম সাক্ষ্য দেন আহত খোকন চন্দ্র বর্মণ। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ১২ অক্টোবর শুরু হয় যুক্তিতর্ক, যা শেষ হয় ২৩ অক্টোবর। পরে ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন পলাতক শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়ালেও আদালত জানিয়ে দিয়েছে পলাতক আসামিরা আপিল করতে পারবেন না। আপিল করতে হলে তাঁদের আগে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
৩৯৭ দিনব্যাপী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলার রায়।
@ইয়াসমিন রিমা


