ভেতরের খবর নিউজ ডেক্স: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও উসকানিমূলক ও ঘৃণা–উদ্রেককারী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছিলেন শেখ হাসিনা,রায় ঘোষণার সময় এমন মন্তব্যই করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এখনও পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়নি; তবে সোমবার ঘোষিত রায়ে বিচারক প্যানেল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন যোগাযোগে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন এবং আগের নির্দেশনা সত্ত্বেও থামেননি।
রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল জানায়, শেখ হাসিনার মধ্যে কোনো অনুশোচনার লক্ষণ নেই; বরং তিনি বিভিন্ন সময়ে হুমকি ও ঘৃণাচারণের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছেন। দলীয় নেতা শাকিলের সঙ্গে টেলিফোন কথোপকথনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ২২৬টি মামলার প্রতিশোধ হিসেবে ২২৬ জনকে হত্যার ‘লাইসেন্স’ পাওয়ার কথাও বলেন,রায়ে এমন মন্তব্যও উঠে এসেছে।
একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মাকসুদ কামালের সঙ্গে ১৪ জুলাইয়ের কথোপকথনের উদ্ধৃতি দিয়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ‘রাজাকারদের ফাঁসি দিয়েছি, এবার তোকেও দেব’—এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে উত্তেজিত করে। ঘোষিত রায়ে বলা হয়, এসব উসকানিমূলক বক্তব্য ছাত্রলীগ–যুবলীগসহ তাঁর অনুগত সংগঠনগুলোকে প্ররোচিত করেছে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়িয়েছে।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয়ে ড্রোন ব্যবহারের আদেশ এবং পরে হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র তাপসের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়। আন্দোলনকারীদের হত্যা ও দমন-পীড়নে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন পরস্পরের যোগসাজশে কাজ করেছেন বলেও আদালত মত দেয়।
চিফ প্রসিকিউটর যুক্তিতর্কে বলেন, অভিযোগে জড়িত এ ব্যক্তিদের মধ্যে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ নেই; বরং সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং বাড়িঘর ধ্বংসের হুমকির মতো ঘটনাও ঘটেছে যা রায়েও প্রতিফলিত হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে সোমবার রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায় ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
@ইয়াসমিন রিমা


