ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকা ক্রমেই বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকির মুখে পড়ছে এমন সতর্কতা দিয়েছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা। গত শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ৩১ ঘণ্টায় ঢাকা ও আশপাশে চারটি ভূমিকম্প শহরের ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
শুক্রবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটের কম্পনটি সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রা। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, ঢাকার মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে আর ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পে ১০ জন প্রাণ হারান, আহত হন ৬ শতাধিক মানুষ। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও তিনটি ভূমিকম্প ঘটে মাত্রা ৩.৩, ৪.৩ ও ঢাকার বাড্ডায় ৩.৭।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ৩৯টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের ভেতরে। এর মধ্যে ১১টি ভূকম্পন ঘটেছে ঢাকার ৮৬ কিলোমিটারের মধ্যে অর্থাৎ ২৮ শতাংশের বেশি কম্পনই রাজধানীর নিকটবর্তী অঞ্চলে।
বিগত পাঁচ বছরে ১৮টি জেলায় ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে, যার মধ্যে আছে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিলেট, নেত্রকোনা, দিনাজপুরসহ আরও কয়েকটি জেলা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, নরসিংদীতে আগে ছোট ভূমিকম্পগুলো তেমন গুরুত্ব পেত না। এখন বোঝা যাচ্ছে, এখানকার সাব-ফল্টটি অনেক বড় এবং তা ঢাকার দিকেও বিস্তৃত। “এ ভূমিকম্প প্রমাণ করে ঢাকা বড় ঝুঁকির মধ্যে আছে,” বলেন তিনি।
ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানান, সাবডাকশন জোনে যেই বিপুল শক্তি জমে আছে, তার মাত্র ১ শতাংশেরও কম নির্গত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আফটারশকগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে সামনে বড় ধরনের ভূমিকম্প দ্রুত ঘটতে পারে।
১. উৎপত্তিস্থল ঢাকার কাছাকাছি।
২. ঢাকার নতুন অংশ নিচু জমি ভরাট করে বানানো যা কম্পন বাড়ায়।
৩. বেশিরভাগ ভবন নির্মাণবিধি মানা হচ্ছে না।
৪. ঢাকার অতিরিক্ত জনঘনত্ব ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ায়।
২০১৬ সালে তেজগাঁওয়ে ন্যাশনাল অপারেশন সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলেও প্রায় এক দশকে কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানায়, জরুরি সরঞ্জাম সংগ্রহ চলমান এবং নগর-স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্ত করে সচেতনতা বাড়ানো হবে।
তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ গওহর নঈম ওয়ারা। তিনি বলেন, “দুর্যোগের তথ্য পেতে এক দিনের বেশি সময় লাগছে এটা গুরুতর অদক্ষতা।” তাঁর মতে, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ভূমিকম্প শিক্ষার অভাবও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়।
ঢাকা তাই এখন শুধু কম্পনের শহর নয় অপেক্ষার শহর। বড় ভূমিকম্পের আগে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
@ইয়াসমিন রিমা


