ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইনকিলাব মঞ্চের এক সদস্য জানিয়েছেন—যারা মোটরসাইকেলে করে এসে গুলি চালায়, তারা প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হাদির প্রচারণার টিমে যোগ দিয়েছিল।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য মোহাম্মদ ওসামা বলেন, দুই ব্যক্তির একটি মোটরসাইকেল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের একজন ওসমান হাদির মাথায় লক্ষ্য করে গুলি চালায়।তার ভাষায়, “দুই সপ্তাহ আগে তারা প্রচারের দলে যোগ দিয়েছিল। মাঝখানে কয়েকদিন দেখা যায়নি। কয়েকদিন আগে আবার এসে কাজে যুক্ত হয়।”
ঘটনার পর পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলের ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন দিক যাচাই করে দেখছেন।
শুক্রবার দুপুরে বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ সেলিম জানান, “ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।”
সন্ধ্যার দিকে তার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। প্রথম ধাপ শেষে তাকে আইসিইউতে নেওয়া প্রস্তুতি চলছিল। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ওসমান হাদির শারীরিক খোঁজ নিতে বিএনপি নেতা ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস হাসপাতালে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করলে তিনি সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। হাসপাতালের বাইরে বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।তিনি বলেন, “নির্বাচনী পরিবেশে এমন সহিংস হামলা অগ্রহণযোগ্য।”
হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই প্রতিক্রিয়া জানায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দল।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লিখেছেন,
“রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই। জাতি যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এমন ঘটনা ভাষাহীন।”
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন,
“রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এ ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।”
এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন,
“আল্লাহ আমার ভাইকে বাঁচাইয়া রাখো।”
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী দাবি করেন,ওসমান হাদি একাধিকবার ভারতীয় নাম্বার থেকে হুমকি পেয়েছিলেন।
তবে তিনিও উল্লেখ করেন—এখনও নিশ্চিত নয় কে বা কারা হামলা চালিয়েছে।
গত বছর জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ইনকিলাব মঞ্চ গঠিত হয়। নিজেদের তারা ‘অভ্যুত্থানে অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে পরিচয় দেয়।
ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।