ঢাকায় নবী কন্যা হযরত ফাতেমা (সা. আ.) এর স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক:  মহানবী হয়রত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতিমা (সা.আ .)-এর স্মরণে আজ রাতে রাজধানী ঢাকার কবি নজরুল ইসলাম ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকাস্থ আল মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধির দপ্তর ও বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় ‘হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) এর ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদার বিভিন্ন দিক’ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে অবস্থিত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রাহমানি জাহানাবাদী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীরমোহাম্মদী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম গাউস কাদেরি ।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইমামিয়া উলামা সোসাইটির মহাসচিব ড. আব্দুল কুদ্দুস বাদশাহ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বি করেন ইরানের আল-মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক ড. আনোয়ারুল কবির।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আজ আমরা এমন এম মহিয়সী নারীর স্মরণে এখানে উপস্থিত হয়েছি যিনি বিশ্বের সকল নারীর বিশেষকরে মুসলিম নারীদের জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় আদর্শ। যাঁর আবির্ভাবে পৃথিবী বেহেশতের সুবাতাসে আন্দোলিত হয়েছিল। আর এই আসারণ ব্যক্তিত্ব হলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চোখের মণি, কলিজার টুকরা ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) । যিনি ছিলেন রাসূলে খোদার শিক্ষা ও আদর্শের অনুপম প্রতিচ্ছবি। তিনি এ পৃথিবীতে এসেছিলেন বেহেশতের খুশবু নিয়ে। তাঁর নূরের আভায় আলোকিত হয় পৃথিবী । মহান স্রষ্টা তাঁর শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে তাকে বিশ্বের নারীকুলের জন্য আদর্শ হিসেবে পেশ করেছেন ।

রাসুলে খোদা (সা.) তার সম্পর্কে বলেছেন, আমার কন্যা ফাতেমা জগতসমূহের নারীদের নেত্রী। সে আমার দেহের অংশ, আমার চোখের আলো, আমার আত্মার ফসল, আমার বক্ষের মধ্যে আমার প্রান।মানবকুলের সুন্দর আদর্শ। সে যখন মেহরাবে রবের সামনে নামাজে দাঁড়ায় তখন তার নূর আকাশের ফেরেশতাদেরকে আলোকিত করে, যেভাবে আকাশের নক্ষত্র পৃথিবীকে আলোকিত করে।
বক্তারা আরো বলেন,একজন পরিপূর্ণ মানুষের যতগুলো ভালো দিক ও গুণাবলী থাকা প্রয়োজন তার সবগুলোর অধিকারী ছিলেন ‘হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.)। তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের নারী জাতির আদর্শ, বেহেশতের নারীদের নেত্রী, পবিত্র কোরআন এবং অসংখ্য হাদীস কর্তৃক ঘোষিত নিষ্পাপ নারী। ‘হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.) সম্পর্কে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলেন, হযরত ফাতিমাকে কষ্ট দিলে আল্লাহ অসন্তুস্ট হয় আর হযরত ফাতেমাকে ভালোবাসলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়।

তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন মানুষ, ইসলামের পথে একজন সাহসী সংগ্রামী, একজন জ্ঞানী নারী- যিনি একই সময় একদিকে যেমন একজন গৃহিণীর ভূমিকা পালন করেন অন্যদিকে ছিলেন একজন মমতাময়ী স্ত্রী ও মাতা এবং পূর্ণতার অধিকারিণী।

আমরা যদি ‘হযরত ফাতিমার জীবনীর দিকে লক্ষ করি তাহলে দেখতে পাব যে, তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে আমাদের জন্য পরম শিক্ষা এবং সেটি সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইহলৌকিক, পারলৌকিক, আধ্যাত্মিক, ধৈর্য, সংযম ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে।

— ভেতরের খবর

 

  • Related Posts

    সংবাদটি নিরপেক্ষ ও সংবাদপত্রের ভাষায় মাঝারি আকারে সাজিয়ে দিলাম

    ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক:  ছোটপর্দার অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিও নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। কাজল আরেফিন অমির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ…

    নেপালের বন্যায় সহায়তায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা বালেন্দ্র শাহর

    ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: নেপালে সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যায় সহমর্মিতা প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *