ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে পুরো জীবন উৎসর্গ করা বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়া তাঁর মৃত্যুর পরও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দিলেন। তাঁর জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে দল-মত নির্বিশেষে মানুষের ঢল নামে। শোক, শ্রদ্ধা আর স্মৃতির আবেশে সেখানে যেন একত্র হয় পুরো বাংলাদেশ।
সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দলে দলে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের দিকে ছুটে আসে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্ম—সবার উপস্থিতিতে এলাকা পরিণত হয় শোকসভায়। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, অনেকের চোখে ছিল অশ্রু। মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল গণতন্ত্রের জন্য তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ কেটেছে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের দাবিতে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবস্থান আলাদা করে চিহ্নিত। সমর্থকরা বলছেন, ব্যক্তিগত জীবনের নানা ত্যাগ স্বীকার করেও তিনি কখনো গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেননি।
জানাজায় অংশ নেওয়া নাগরিকরা জানান, এই উপস্থিতি শুধু কোনো রাজনৈতিক নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নয়; বরং এটি গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। অনেকের মতে, খালেদা জিয়ার জানাজা রাজনীতির বিভাজন ছাপিয়ে জাতীয় ঐক্যের এক প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মৃত্যুর পর এমন গণজমায়েত প্রমাণ করে, খালেদা জিয়া কেবল একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর জানাজা সেই অধ্যায়ের প্রতি জাতির সম্মিলিত শ্রদ্ধা নিবেদনের দৃশ্যমান প্রকাশ।
শোকের এই দিনে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উচ্চারিত হয়েছে একটি বার্তাই—গণতন্ত্রের জন্য লড়াই কখনো বৃথা যায় না। মরহুম খালেদা জিয়া তাঁর জীবদ্দশায় যেমন সংগ্রামের প্রতীক ছিলেন, তেমনি মৃত্যুর পরও তিনি হয়ে থাকলেন জাতীয় ঐক্যের এক স্মরণীয়


