ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত (সুরভী) রিমান্ড আদেশের মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই জামিন পেয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক অমিত কুমার দে তাঁর চার সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে দুপুর একটার দিকে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২–এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মহাদি তাহরিমার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আদেশের পর আদালতপাড়ায় জাতীয় ছাত্রশক্তির ব্যানারে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আদালত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. মান্নান জানান, দুপুরে রিমান্ড মঞ্জুরের পর বিকেলেই ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। শুনানি শেষে অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ-১ আদালত তাহরিমার জামিন মঞ্জুর করেন। কারাগারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত পাঠানো গেলে আজই তাঁর মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিমান্ড আদেশের পর গারদখানা থেকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় তাহরিমা অভিযোগ করে বলেন, তদন্ত ছাড়াই তাঁর রিমান্ড দেওয়া হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়নি।
তাহরিমাকে আদালতে তোলা হবে, এ খবর পেয়ে সকাল থেকেই জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তাঁরা তাহরিমার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন এবং অবিলম্বে মুক্তি না দিলে সারা দেশে ব্লকেড কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় তাহরিমার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন সাংবাদিক নাইমুর রহমান (দুর্জয়)। মামলায় অভিযোগ করা হয়, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্ল্যাকমেলিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাহরিমা। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনীর প্রধানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে।
মামলায় তাহরিমার বয়স ২১ উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির গাজীপুর জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তি কমিটির আহ্বায়ক বশির আহমেদ (অপু) বলেন, তাহরিমা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। তবে তিনি তাঁদের সংগঠনের কোনো কমিটির সদস্য নন।
@ইয়াসমিন রিমা