ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা অর্থকে চাঁদাবাজি হিসেবে দেখেন না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা অর্থকে জোরপূর্বক আদায় বলা যায় না, তাই সেটিকে চাঁদা হিসেবে আখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। নতুন সরকারে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন।
মন্ত্রী বলেন, মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতিগুলো নির্দিষ্ট হারে অর্থ সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্টদের কল্যাণে ব্যয় করে থাকে। “চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। এখানে তারা সমঝোতার ভিত্তিতে করছে,”—যোগ করেন তিনি। তবে এই অর্থ আদায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে বলেও জানান।
সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনাকে জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। রেল সম্প্রসারণ, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, খাল পুনঃখনন ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা—এসব খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পুরোপুরি বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
রেল খাতে দীর্ঘসূত্রতা ও সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোথাও রেললাইন প্রস্তুত হলেও ইঞ্জিন ও বগির অভাবে ট্রেন চালু করা যায়নি। আবার কোথাও ইঞ্জিন থাকলেও বগির ঘাটতি রয়েছে। দেশের ভেতরে ইঞ্জিন ও বগি তৈরির সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে যাত্রাসময় কমানো, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং ঈদকেন্দ্রিক অতিরিক্ত টিকিট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পদ্মা সেতু–এর টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করে মন্ত্রী বলেন, নিয়মিত টোল আদায় হচ্ছে এবং সেতুর কিস্তি পরিশোধে কোনো বকেয়া নেই।
বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নির্মিত বাসের বিশেষ লেন (বিআরটি) প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটি রাষ্ট্রবান্ধব হয়নি—এমন ধারণা থাকলেও বিপুল ব্যয় ও ঋণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে।
আসন্ন ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আগের সফল মডেল অনুসরণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত কিছু পদক্ষেপ তিন থেকে চার দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। গার্মেন্ট কারখানায় আগাম ছুটি দেওয়ার প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে, তবে অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।
দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, “যেখানে জনস্বার্থ, সেখানে দলীয় স্বার্থ নগণ্য। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করেই মন্ত্রণালয় পরিচালনা করা হবে।”


