ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর এক মাসে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানিতে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও বড় ধরনের সংকট নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে ১১টি জাহাজে দেশে এসেছে ৩ লাখ ২৭ হাজার টনের বেশি জ্বালানি তেল। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল, ২২ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল রয়েছে। এছাড়া ভারত থেকে পাইপলাইনে এসেছে আরও ২২ হাজার টন ডিজেল।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত আটটি জাহাজ, যেগুলোতে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টন জ্বালানি আসার কথা ছিল, সেগুলো সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য ভিড় ও দীর্ঘ লাইনের চিত্র দেখা গেছে। অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার কোথাও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আটকে থাকা কয়েকটি জাহাজের মধ্যে চারটির বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং কিছু জাহাজ শিগগিরই পৌঁছাবে।
সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিপিসি এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত একটি আমদানি পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ৩ লাখ ২৩ হাজার টন ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে মে ও জুন মাসেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ জোরদার করা হয়েছে এবং সামনে সেচ মৌসুম শেষ হলে ডিজেলের চাহিদাও কিছুটা কমবে। এতে সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারও বলছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।
@ইয়াসমিন রিমা


