ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানকালে গুলিতে নিহত এইচএসসি পরীক্ষার্থী শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের হত্যার বিচার দাবি করেছেন তার বাবা আবদুল মতিন। রোববার (৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চলমান সাক্ষ্যগ্রহণে ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মতিন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তার সাক্ষ্য রেকর্ড করেন।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হন তার একমাত্র ছেলে শাহরিয়ার। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, গুলি তার মাথায় ঢুকে গেছে। অবস্থার অবনতি হলে ২০ জুলাই দুপুরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ছেলের লাশ নিতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেন মতিন। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতেও বাধার সম্মুখীন হন তিনি। পরদিন জিডি করার পর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বুঝে পান। তবে গ্রামের বাড়িতে দাফন নিয়েও চাপ ও বাধার মুখে পড়তে হয় পরিবারকে। পরে ২২ জুলাই সকালে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মতিন বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলের ফাঁসি চাই।”
মামলার সাক্ষ্যে আরও উঠে আসে, তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় কারফিউ জারির আড়ালে আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়ন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী সাক্ষীকে জেরা করেন। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
@ইয়াসমিন রিমা


