ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিরোধী দলের গণভোট প্রস্তাবকে সরাসরি ‘সংবিধানের ওপর প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, আইনের ক্ষমতা না থাকলেও আছে বলে চালিয়ে দেওয়ার মতো ‘কালারেবল লেজিসলেশন’ বা চাতুর্যপূর্ণ আইন প্রণয়নের কোনো সুযোগ নেই।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, গণভোটের যে শিডিউল বিরোধীরা প্রস্তাব করেছে, সেখানে ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদের (পিআর পদ্ধতি) কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ জাতীয় ঐকমত্যের কথা বলে তা উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ আইনের ভাষায় ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ বা শুরু থেকেই বাতিল।
তিনি পানের খিলের উদাহরণ টেনে বলেন, বাইরে ভালো দেখিয়ে ভেতরে ত্রুটিপূর্ণ বিষয় লুকিয়ে রাখার রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। “পানের খিলের ভেতরে পচা পান ঢোকানোর মতো রাজনীতি আমরা মানি না,” বলেন তিনি।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো সাধারণ প্রস্তাবনা নয়। বরং বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে গঠিত একটি অঙ্গীকার। এই সনদ নিজেই স্ব-ব্যাখ্যায়িত এবং এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি এর ভেতরেই নির্ধারিত আছে।
সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি সংশোধনই এক ধরনের সংস্কার হলেও সব সংস্কার সংবিধান সংশোধনের পর্যায়ে পড়ে না। কোনো সংস্কারকে আইনি রূপ দিতে হলে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের মাধ্যমেই তা করতে হবে এর বাইরে কোনো শর্টকাট নেই।
বিগত বছরগুলোর গুম, খুন ও রাজনৈতিক নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জুলাই সনদের পেছনে হাজারো মানুষের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে।
বিরোধী দলের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের প্রস্তাবের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে এবং এতে অতীতের স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের ঝুঁকি রয়েছে। তবে ‘জুলাই বিপ্লবীরা’ তা হতে দেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেষে তিনি জুলাই সনদকে জনগণের মুক্তির সনদ হিসেবে অভিহিত করেন।
@ইয়াসমিন রিমা


