ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ইরানের বন্দর অবরোধের মার্কিন ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সপ্তাহের প্রথম লেনদেনেই এই প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, সেখানে সংঘাতের প্রভাবে তা একাধিকবার ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দাম কিছুটা কমে ৯৫ ডলারের ঘরে নেমেছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঝুঁকছে। এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, তবে বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শিগগিরই মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যক্রম শুরু করতে পারে। দীর্ঘ আলোচনার পরও ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে কোনো স্থায়ী সমাধান না আসায় এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও জ্বালানির উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে, সংঘাতের মাঝেই সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে।
@ইয়াসমিন রিমা


