ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: বাংলা নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে রাজধানীর রমনার বটমূলে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সূর্যের লাল আভায় মুখরিত পরিবেশে শতাধিক শিল্পীর সম্মিলিত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় বাংলা সন ১৪৩৩।
প্রতিবারের মতো এবারের আয়োজনও করে দেশের প্রাচীন সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে সমাপ্তি ঘটে।
প্রভাতি এ আয়োজনে ভোর থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বটমূল প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে রমনা পার্কের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের ভিড়। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
অনুষ্ঠানে একক ও সম্মিলিত পরিবেশনায় উঠে আসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, লালনসহ খ্যাতিমান স্রষ্টাদের গান। পাশাপাশি ছিল কবিতা আবৃত্তিও। প্রায় দুই ঘণ্টার এই আয়োজনে মোট ২৪টি গান ও কবিতা পরিবেশন করা হয়।
বিদেশি অতিথিরাও উপভোগ করেন এই বর্ণিল আয়োজন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেন নববর্ষের এই উৎসবে। দর্শনার্থীরা জানান, এমন সুরেলা ও শান্ত পরিবেশে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো সত্যিই অনন্য অভিজ্ঞতা।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে অনুষ্ঠানস্থলে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি।
অনুষ্ঠানের শেষে বক্তব্যে ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি এমন একটি সমাজের প্রত্যাশা করেন, যেখানে সবাই নির্ভয়ে গান গাইতে পারবে এবং সংস্কৃতির চর্চা হবে বাধাহীন।
নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে শান্তি, সম্প্রীতি ও শঙ্কামুক্ত জীবনের প্রত্যাশায় মুখর ছিল রমনার বটমূল।
@ইয়াসমিন রিমা


