ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করেছে। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে আজ মঙ্গলবার পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) প্রবেশ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হলো বাংলাদেশ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগের শেষ ধাপ। জ্বালানি প্রবেশের পর ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে এবং আগামী আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের আওতায় দুটি ইউনিটে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে উন্নত প্রযুক্তির চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি থেকে তাপ উৎপন্ন হয়ে বাষ্প তৈরি করবে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি জ্বালানি বান্ডিল ব্যবহার করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। ২০১১ সালের বাংলাদেশ-রাশিয়া চুক্তির ভিত্তিতে এই মেগা প্রকল্প শুরু হয়।
সরকার বলছে, রূপপুর চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০–১২ শতাংশ পূরণ হবে। একই সঙ্গে এটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে। দীর্ঘমেয়াদে এই কেন্দ্র ৬০ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উচ্চমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যবহৃত জ্বালানি হাজার বছর পর্যন্ত তেজস্ক্রিয় থাকতে পারে, তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রকল্পের কাজ পিছিয়েছে। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, প্রথম ইউনিট ২০২৬ সালের শেষে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৭ সালের শেষে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি প্রবেশ একটি বড় মাইলফলক হলেও প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করার ওপর।
@ইয়াসমিন রিমা