ভেতরের খবর নিউজ ডেক্স: (মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ বন্ধ, অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে না পেরে মৃত্যুর অভিযোগ; মারধর, ভয়ভীতি ও জিডি না নেওয়ার অভিযোগ) ঢাকার কেরানীগঞ্জের সাক্তা উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মাণাধীন আবাসিক এলাকার সরকারি রাস্তা ইটের প্রাচীর তুলে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তাদের একমাত্র চলাচলের পথটি মোহাম্মদপুর-ঘাটারচর মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও একটি পক্ষ সেটি দখল করে বন্ধ করে রেখেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর ধরে এসব পরিবার ওই এলাকায় বসবাস করছে। তাদের প্রধান যাতায়াতের পথ ছিল একটি সংযোগ রাস্তা, যা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, মালবাহী যানবাহন এবং অন্যান্য জরুরি সেবার গাড়ি চলাচল করত। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাস্তা পাকা করে মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ শুরু করলেও শেষ পর্যায়ে এসে একটি মহল জমি নিজেদের দাবি করে ইটের প্রাচীর তুলে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ফলে সরকারি উন্নয়নকাজ থমকে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া পক্ষটি এখন ওই জায়গা বড় অঙ্কের টাকায় বিক্রির পাঁয়তারা করছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাকে জমি কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাস্তার জায়গা বিক্রির অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনারা সাংবাদিক সাদাকে সাদা বলতে পারেন, কালোকে কালো বলতে পারেন; কিন্তু আমরা অনেক কিছুই পারি না।” স্থানীয়দের মতে, এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায় প্রভাবশালী মহলের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করেছি। সরকারি ওই রাস্তা পায়ে হাঁটার রাস্তা। এখন যদি মালিক ব্যক্তিগত জমি না দেন, তাহলে আমাদের কী করার আছে?” তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি জমি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হয়, তাহলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু হলো কীভাবে? স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বৈঠকের সময়ও ভুক্তভোগী পক্ষের এক ব্যক্তিকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় একটি মাইক্রোবাস প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এছাড়া প্রতিবাদ করায় কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, রাস্তা বন্ধ থাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকবার রোগী হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হয়েছে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো প্রবেশ করতে না পারায় একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। প্রতিদিন বাজারসদাই, নির্মাণসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়াতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা নিকটস্থ পুলিশ ক্যাম্পে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। প্রভাবশালী মহলের চাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে দাবি তাদের। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব হোসেন বলেন, “সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে সরকারি রাস্তা বন্ধ করে রাখা অমানবিক কাজ। আমরা বারবার প্রশাসনের কাছে গিয়েও প্রতিকার পাচ্ছি না। রাস্তা খুলে দিয়ে দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে।” স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি রাস্তা বন্ধ করে জনগণের চলাচল ব্যাহত করা গুরুতর অন্যায়। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে রাস্তা উন্মুক্ত করা, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এখন তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের জরুরি পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আদালতের ১৪৪ ধারার আদেশের পরও নির্মাণকাজের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের পর্যটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কলাতলী মোড়ে ৩৪ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যেই ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আরএফ বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে। আদালতের ১৪৪ ধারার আদেশের পরও সেখানে নির্মাণকাজ চলার অভিযোগে…


