ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পেট্রল ঢেলে আগুনে দগ্ধ হিজড়া এনামুল হক শিশির ওরফে মাহি (৩৫) মারা গেছেন। রোববার (১৭ মে) বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মাহি বুড়িচং পৌরসভার পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হকের সন্তান। তবে পরিবার বর্তমানে কুমিল্লা নগরের ছোটরা এলাকায় বসবাস করে। প্রায় ১০ বছর আগে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল হক বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ছয়–সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হিজড়া সদস্যদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে মাহির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের টাকার ভাগাভাগি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হিজড়া সদস্যদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ১৩ মে সকালে বুড়িচং পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় মাহির গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন আরেক হিজড়া জহিরুল ইসলাম ওরফে আপন।
মাহির চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে অবস্থার অবনতি ঘটায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের বরাতে পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনে মাহির শরীরের প্রায় ৪৪ শতাংশ পুড়ে যায় এবং শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুরু থেকেই তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকেলে তিনি মারা যান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকার সরকারি জায়গায় কয়েকজন হিজড়া দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় একটি চক্রের সহায়তায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহত মাহিও এর আগে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছিলেন।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, মামলায় ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি জহিরসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
@ইয়াসমিন রিমা