ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় ছয় মাস বাকি থাকলেও আগাম কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আগামীকাল শনিবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিশে শুরার বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
দলীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা এবং সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে। নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া, প্রার্থী বাছাই ও মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা মূল্যায়নে উঠে এসেছে।
শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে অনুষ্ঠিতব্য মজলিশে শুরার বৈঠকে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তির প্রস্তাব উত্থাপন করা হতে পারে। একই সঙ্গে নায়েবে আমির, মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব ও সহকারী মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন দায়িত্বশীলদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
বর্তমানে দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা ইউনুছ আহমাদ। ২০০৮ সাল থেকে তিনি এ পদে রয়েছেন। নতুন মহাসচিব হিসেবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান-এর নাম আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়নে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি দ্রুত নিতে হলে এখনই সাংগঠনিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
দলীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রেসিডিয়াম ও উপদেষ্টা পরিষদেও নতুন মুখ আসতে পারে। পাশাপাশি তরুণ, নারী ও পেশাজীবীদের মধ্যে সাংগঠনিক বিস্তার এবং ছাত্র-যুব সংগঠনের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
হাতপাখা প্রতীক নিয়ে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রায় ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পায় দলটি এবং একটি আসনে জয়লাভ করে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা ও নির্বাচনী অভিজ্ঞতার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এলেও প্রায় ২২ লাখ ভোট পাওয়াকে ভবিষ্যৎ রাজনীতির সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে দলটি।
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, দলকে একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী থেকে কার্যকর রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করার লক্ষ্যেই এই পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
@ইয়াসমিন রিমা