ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক:(রাজশাহী):বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠা, দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার দিন। ১৯৭৮ সালের এই দিনে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি ছিলেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার।
একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুম খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া তাঁর সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
বার্তায় বিএনপির রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে।
দেশে যখনই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা জনগণের সঙ্গে নিয়ে সংগ্রাম করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপির প্রতিষ্ঠার পর থেকে যারা প্রাণ দিয়েছেন ও আহত হয়েছেন, তাদের অবদানও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ যখনই নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের অবসানের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়।
বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে দলের প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।’ তাঁর ভাষায়, বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।
সবশেষে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে আবারও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মো: উজ্জল হোসেন।
ব্যুরো প্রধান,রাজশাহী।


