ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিলের আলোচনায় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ ও হইচই শুরু করলে কিছু সময়ের জন্য সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
বিলের আলোচনায় রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সার সংকট, দুর্নীতি এবং ঋণখেলাপির মতো সমস্যার পুনরাবৃত্তি হবে। তিনি বিএনপির আমলে ঋণখেলাপি বেড়ে ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
এ সময় বিএনপির সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ ও হট্টগোল শুরু করেন। রুমিন বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে।
রুমিনের বক্তব্যের সময় নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে মাইক বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি মাইক ছাড়া কথা বলতে থাকেন। এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন এবং বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য দেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। বক্তব্য অসংসদীয় হলে তা এক্সপাঞ্জ করা যেতে পারে, কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতির বাইরে।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, কোনো বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার এ বিষয়ে রুলিং দিতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তার জবাব দিতে পারেন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদে সব সমস্যার সমাধান চান তারা, তবে নিজেদের মধ্যে সমস্যা তৈরি করা ঠিক নয়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পরে বলেন, হট্টগোলের কারণে আলোচনার বিষয়ই তিনি বুঝতে পারেননি। তিনি এটিকে দুঃখজনক এবং অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংসদ থেকে বেরিয়ে রুমিন ফারহানা প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন। এ ঘটনায় তিনি চিফ হুইপের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
@ইয়াসমিন রিমা