√ বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ২০১৭ সালে পাট দিয়ে তৈরি করেছিলেন এক বৈপ্লবিক উদ্ভাবন—সোনালী ব্যাগ, যা দেখতে হুবহু পলিথিনের মতো হলেও এটি সম্পূর্ণ বায়োডিগ্রেডেবল। এটি মাটির সঙ্গে খুব সহজেই মিশে যায় এবং পরিবেশে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। নতুন একটি গবেষণা উঠে আসা প্লাস্টিকের মতো এক হাজার বছর নিজেকে নিঃশেষ করতে অপেক্ষা না করেই এটি পচে-গলে মাটির সাথে নিঃশেষ হয়ে যায় অতি দ্রুত পাট দিয়ে তৈরি।
√পলিথিন দূষণ: এক নীরব ঘাতক
আজ আমরা এতটাই পলিথিননির্ভর হয়ে পড়েছি যে এর বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক আমাদের মস্তিষ্ক, রক্ত এমনকি মায়ের দুধ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। নদী, খাল, জলাশয়ের নিচে স্তরে স্তরে জমে থাকা পলিথিন বর্জ্য জলপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
√সমস্যার মূলে পলিথিন সিন্ডিকেট
সোনালী ব্যাগের বাজারজাতকরণ ও প্রচলনের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিথিন সিন্ডিকেট—এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী যারা এই বিকল্পকে বাস্তবায়িত হতে দিচ্ছে না। কারণ তারা জানে, এই ব্যাগ প্রচলিত হলে পলিথিনের চাহিদা কমে যাবে এবং তাদের লাভে বিপর্যয় আসবে।
আমাদের সমাধানের সমন্বয়হীনতা এতদিন আমাদেরকে পিছিয়ে রেখেছে। আদরের জন্য মতবিনিময় এবং সমন্বয়ে আজ আমরা একটি গণ্ডিতে দাঁড়িয়েছি।
√ সচেতনতা বৃদ্ধি: সমাজের প্রতিটি স্তরে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
√ আইন বাস্তবায়ন: পলিথিন নিষিদ্ধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
√ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিকল্প: সোনালী ব্যাগের মতো পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
√ নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশ শিক্ষা ও কার্যক্রম চালু করে আগামী প্রজন্মকে নেতৃত্বে আনতে হবে।
পলিথিন দূষণ আজ কেবল একটি পরিবেশগত সংকট নয়, এটি একটি মানবিক বিপর্যয়। এখনই আমাদের জেগে উঠতে হবে, না হলে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাব এক বিষাক্ত ও বিপন্ন পৃথিবী। সোনালী ব্যাগ কেবল একটি উদ্ভাবন নয়, এটি হতে পারে আমাদের নতুন যুগের প্রতীক—পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞানচেতনার এক গৌরবময় নিদর্শন।
(বৈপ্লবিক আবিষ্কারক পলিথিন এর বিকল্প উদ্ভাবক এই বিজ্ঞানীর নিজের কন্ঠে শুনুন তাঁর সৃষ্টির স্বীকৃতি ও প্রাধান্য পাবার আকুতি কিভাবে দ্বারে দ্বারে কাঁদে, যাতে মিশে আছে মানুষের মুক্তি, এ বন্দীশালা যেন আমাদের নিরন্তর)
-রাশিদুল হাসান সুজন
সদস্য সচিব, নোঙর।
২৬ জুন ২০২৫ ইং
‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’


