ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: একজন শিক্ষক, একজন নারী, একজন নায়িকা—এবং একজন শহীদ। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিজের জীবন দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে অকুতোভয় বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মেহরিন চৌধুরী। তবে এই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ভাতিজি ছিলেন।
ঘটনার দিন, আকাশ থেকে ছুটে আসা প্রশিক্ষণ বিমানটি মাইলস্টোন কলেজ ভবনের একাংশে বিধ্বস্ত হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অনেকে আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন। কিন্তু ঠিক তখনই মেহরিন ম্যাম নিজে পলায়ন না করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শেষ মুহূর্তে এক শিশুশিক্ষার্থীকে ঠেলে বাইরে বের করে দিয়েই তিনি নিজে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
মেহরিন চৌধুরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি ছিলেন বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর কন্যা। পারিবারিকভাবে তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগকারী একজন নিঃস্বার্থ মানুষ। শিক্ষকতা ছিল তার নেশা ও পেশা, আর ছাত্রছাত্রী ছিল তার পরিবারের মতো।
রাজনৈতিক পরিচয় নয়, মানুষ হিসেবে দায়িত্ববোধই তাকে মহান করেছে—এমন মন্তব্য করেছেন তার সহকর্মীরা।
মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, “তিনি ছিলেন নিঃস্বার্থ, সবার আগে মানুষকে ভালোবাসতেন। আজ সেটারই সর্বোচ্চ প্রমাণ রেখে গেছেন তিনি।”
মেহরিন চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “তিনি শুধু আমাদের দলীয়ভাবে গর্বের ছিলেন না, আজ তিনি সমগ্র জাতির শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে গেছেন।”
মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে মেহরিন ম্যাম হয়ে থাকবেন চিরকাল স্মরণীয়—একজন সাহসিনী, এক শহীদ শিক্ষক।