ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক:
২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে আমরা এমন এক বাংলাদেশ দেখছি, যার চারপাশ ঘোলাটে, কিন্তু বাতাসে ভবিষ্যতের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
এই ইঙ্গিত কখনো চাপা হাহাকার, কখনো গোপন ক্ষোভ, আবার কখনো অপ্রকাশ্য আশাবাদের ভাষা।
প্রশ্ন একটাই : বাংলাদেশ আসলে কোন দিকে যাচ্ছে? নির্বাচনী হাওয়া—গণতন্ত্রের পর্দার পেছনের রাজনীতি, নির্বাচনের সময়কাল ঘনিয়ে এলেও মানুষ এখন ভোট নিয়ে যতটা আগ্রহী নয়, তার চেয়ে বেশি সংশয়ী।
সরকারি দল ‘গ্যারান্টি চায়’, বিরোধী দল ‘গ্যারান্টি পায় না’।
Piar-পদ্ধতির নামে যেখানে দলীয় স্বার্থে প্রশাসন ও আদালত ব্যবহৃত হয়, সেখানে ভোট একটি প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি প্রতীক—যার মধ্যে অংশগ্রহণ নেই, প্রতিযোগিতা নেই, কণ্ঠ নেই।
এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশে “ভোট থাকবে, ভোটার থাকবে না”—এটাই বাস্তব সম্ভাবনা।
ইসলামী দলগুলো—আদর্শ হারানো এক বিভক্ত শক্তি, যেসব ইসলামী দল একসময় সমাজের নৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা আজ নানা জোটে ভাগ হয়ে গেছে—কখনো ক্ষমতার কাছে নত, কখনো নীরবে সুবিধাভোগী।
তাদের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে ‘চুক্তির পেছনে চুক্তি’-তে, আদর্শে নয়। ফলে, ভবিষ্যতে তারা সমাজ-রাজনীতিতে একটি গৌণ বা পুতুল শক্তিতে রূপ নিতে পারে—বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে।
ইউনুসব শাসনব্যবস্থা—একক সিদ্ধান্ত ও বুদ্ধিবৃত্তিহীন ‘সহিংস স্থিতি’, বর্তমান সরকার একটি একক চক্রে আবদ্ধ—যেখানে সিদ্ধান্ত আসে উপর থেকে, প্রশ্নের জায়গা নেই।
নির্বাচন থেকে নীতিনির্ধারণ, শিক্ষা থেকে বিচার—সবকিছুতে “একটাই ঠিক” এই ধারণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি এই ধারা চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এক ‘সহিংস স্থিতি’র দিকে এগোবে—যেখানে বাহ্যিক শান্তি থাকবে, কিন্তু ভেতরে থাকবে বিস্ফোরক অসন্তোষ। অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি—রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত কাঁপানো আগুন, আমলাতন্ত্রের পচন, নীতি-নির্ধারকদের স্বজনপ্রীতি, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গভীর আঁতাত এসব মিলে দুর্নীতি এখন সাংগঠনিক, কাঠামোগত।
যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে পরবর্তী দশকে আমরা একটি ব্যর্থ সুশাসনের অর্থনৈতিক মডেল দেখতে পাব, যেখানে ঋণ বাড়বে, কর্মসংস্থান কমবে, আর মধ্যবিত্ত শ্রেণি ধীরে ধীরে নিঃশেষ হবে।
তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী?
আমরা সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে:
যেখানে নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন তুলবে, কণ্ঠস্বর হবে প্রযুক্তিভিত্তিক, গ্লোবালাইজড।
রাজনৈতিক ধারা ভাঙবে, এবং এক নতুন জাতীয় চুক্তির সূচনা হবে। ব্যর্থ বিরোধীতার বিপরীতে গড়ে উঠবে নাগরিক নেতৃত্ব, বুদ্ধিবৃত্তি, তথ্য এবং নৈতিকতা দিয়ে। আমরা এখনো সেই সময়ের ভেতরে আছি, যেখানে ভুল শুধরানো সম্ভব। নতুন নেতৃত্ব আসবে, যদি জনগণ চায়।
নতুন শক্তি তৈরি হবে, যদি বুদ্ধিবৃত্তি আর দেশপ্রেম একসঙ্গে কাজ করে।
বাংলাদেশ কোন পথে—এই উত্তর আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
আর সেই ভবিষ্যৎ কেবল সরকারের নয়, জনগণের, তরুণদের, চিন্তাশীল নাগরিকদের।
-রাশিদুল হাসান সুজন