ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জুলাই সনদকে সংবিধানের ওপরে রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। তবে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমাধান সম্ভব বলে আশাবাদী দলটির নীতিনির্ধারকরা। অন্যদিকে, নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে দলটি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় পিআর পদ্ধতি এখনো উপযোগী নয়। তাঁর মতে, জনগণ কাকে ভোট দিচ্ছেন এবং কাকে সংসদে পাঠাচ্ছেন তা সরাসরি জানার অধিকার রাখেন। কিন্তু পিআর পদ্ধতিতে সেই স্বচ্ছতা থাকে না। তাই জনগণের আস্থা অর্জন করে সরাসরি নির্বাচিত হওয়াই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি।
অন্যদিকে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রদত্ত জুলাই সনদের খসড়ায় লিখিত মতামত জমা দিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সনদের ভূমিকা অংশ গ্রহণযোগ্য হলেও কিছু দফায় অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিশেষ করে অঙ্গীকারনামার কয়েকটি দফা অযৌক্তিক। যেমন সনদকে সংবিধানের ওপরে প্রাধান্য দেওয়া, এর বৈধতা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না বলা, কিংবা কেবল আপিলেট ডিভিশনের এখতিয়ার নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সনদের পূর্ণাঙ্গ খসড়া নিয়ে আলোচনা করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে সদস্যরা মত দিয়েছেন, কোনো ডকুমেন্ট বা নথির অবস্থান সংবিধানের ওপরে হতে পারে না। একই সঙ্গে অঙ্গীকারনামার আটটি দফার মধ্যে কয়েকটি অপ্রয়োজনীয় বলেও মন্তব্য করেছেন তাঁরা।
বিএনপি মনে করে, জাতীয় নির্বাচনের স্বার্থে যতটা ছাড় দেওয়া সম্ভব ততটাই তারা দিয়েছে। এখন প্রত্যাশা আলোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় জুলাই সনদ প্রণয়ন, স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে বিএনপি তাদের যুক্তিসঙ্গত মতামত আগামীতেও ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় উপস্থাপন করবে।
ইতিমধ্যে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র দলগুলোর সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে সনদ নিয়ে অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ এবং খসড়ায় পূর্বের ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) প্রতিফলিত না হলে তা লিখিত আকারে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর