ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভয়হীন পরিবেশ ফিরে এসেছে। আবাসিক হলগুলোতে ‘গেস্টরুম সংস্কৃতি’ দূর হয়েছে, আর শিক্ষার্থীদের গণরুমে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে না। এখন আর কাউকে জোর করে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে নেওয়া হয় না। এই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল মঙ্গলবার ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুস্থ পরিবেশ ফিরে আসবে এবং লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির অবসান ঘটবে। অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী নাদিয়া ইসলাম বলেন, “এখন একটা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শুধু রাজনীতি নয়, যারা শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়াতে কাজ করবেন, তাঁদেরই বেছে নেব।”
ভোট প্রচারের প্রথম দিনেই প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী মাশিয়াত লামিসা বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। এবার ডাকসু নির্বাচনে সেই পরিবর্তন আসুক।” ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদ আলী বলেন, “ক্যাম্পাসে এসেছি মাত্র দুই মাস। বড় ভাইদের কাছে শুনেছি আগে অবস্থা কেমন ছিল। সেই পরিবেশ যেন আর ফিরে না আসে।”
বিভিন্ন প্যানেলও প্রচার শুরু করেছে। বামপন্থী সাতটি ছাত্রসংগঠনের উদ্যোগে গঠিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেলের প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে সামাজিক বিজ্ঞান, টিএসসি ও কলা অনুষদ এলাকায় জনসংযোগ চালিয়েছেন। অন্যদিকে, ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ইসলামি ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ও অন্যান্য প্যানেলও তাদের ইশতেহার শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।
ডাকসুর ২৮টি পদে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ৬২ জন ছাত্রী। ভোট কেন্দ্রগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে—বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি ও প্রক্টরিয়াল টিম, পুলিশ এবং সেনাবাহিনী। নির্বাচনের সাত দিন আগে থেকে আবাসিক হলে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না।
বৃহত্তর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভোটের মঞ্চে এক শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে যাচ্ছে।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর