ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের এক ছাত্রী ওই এলাকায় ভাড়া থাকেন। রাত সোয়া ১১টার দিকে তিনি ভবনে প্রবেশ করতে গেলে দারোয়ান দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে দারোয়ান ওই ছাত্রীকে মারধর করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে ধরতে গেলে তিনি পালিয়ে যান। শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিলে স্থানীয়রা ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। এতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজসহ অনেকে আহত হন। এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
হামলায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা আল মাসনূনসহ বহু শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেয়া হলেও সেখানে অক্সিজেন সংকট দেখা দেয়।
চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “২ নম্বর গেটে আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সহকারি প্রক্টর কুরবান আলী, নাজমুল স্যার এবং নিরাপত্তা প্রধান রহিম ভাইও আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য আহত। প্রোক্টোরিয়াল বডির গাড়ি, পুলিশের টহল গাড়ি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আমরা অতিরিক্ত পুলিশ চেয়েছি, কিন্তু টহল গাড়ি আক্রান্ত হওয়ায় তারা আসতে বিলম্ব করছে। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
রাত ৩টা ২০ মিনিটে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে ভোর পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও প্রথমদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। পরে সেনা সদস্যরা দায়িত্ব নিলে সংঘর্ষ থামতে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে চবিতে ছাত্ররাজনীতি ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন ঘিরে উত্তেজনা চলছিল। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।