রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলের দরবারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন মো. রাসেল মোল্লা (৩৫)। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের জতুমিস্ত্রীপাড়ার আজাদ মোল্লার ছেলে এবং নুরাল পাগলের ভক্ত ছিলেন।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে ২২ জন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ১৯ জন রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনজন। ফরিদপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নুরাল পাগলের কবর নিচে নামানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আশির দশকের শেষ দিকে নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবি করে আলোচনায় আসেন নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল। গত ২৩ আগস্ট তিনি মারা গেলে দরবার প্রাঙ্গণে বিশেষ কায়দায় দাফন করা হয় এবং পবিত্র কাবা শরীফের আদলে তার কবর সাজানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় জনতা। একাধিক বৈঠক ও আলোচনার পরও কবর নিচে নামানো না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে আনসার ক্লাব মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দরবারে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। পাল্টা আক্রমণ চালায় নুরালের ভক্তরা। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হাতাহাতির একপর্যায়ে ভক্তদের পরাজিত করে দরবারে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা। এরপর নুরাল পাগলের মরদেহ কবর থেকে তুলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও পরে সেনাবাহিনী গেলেও তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শরীফুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ২২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং গুরুতর অবস্থায় ১৬ জনকে ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।