ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিকড় গ্রামের মিনারুল ইসলামের করুণ পরিণতির পর এখনো দুঃখ ও বিস্ময়ের শেষ নেই গ্রামে। গত ১৫ আগস্ট ঋণের বোঝা ও অভাব-অনটনের কারণে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেন মিনারুল (৩৫)। ওই সময় তার লেখা চিরকুটে উঠে আসে হাহাকার ‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে…।’
এই মর্মান্তিক ঘটনার এক মাস পূর্তিতে গত শুক্রবার পরিবার আয়োজন করে চল্লিশা। সেখানে গ্রামের প্রায় ১,২০০ জন মানুষকে খাওয়ানো হয় ভাত, ডাল, মুড়িঘণ্ট দিয়ে। তবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ব্যয়ের দিকটি প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে এ আয়োজনে, যা জোগাড় করতে আবারো ধার-দেনা করতে হয়েছে পরিবারকে।
স্থানীয়রা বলছেন, জীবিত অবস্থায় অভাবের কারণে আত্মহত্যায় বাধ্য হওয়া মিনারুলের মৃত্যুর পর তার নামে এমন ব্যয়বহুল আয়োজন অমানবিক এক বৈপরীত্য তৈরি করেছে। পরিবারের সদস্যরাও জানিয়েছেন, ধার শোধ করতে হলে ভবিষ্যতে জমিজমা বিক্রি করতে হতে পারে।
গ্রামের মানুষের চোখে এখনো ভাসছে চারটি মরদেহের সেই করুণ দৃশ্য। মিনারুলের পরিবার চিরকুটে যেমন কষ্টের কথা লিখেছিল, মৃত্যুর পরও সেই কষ্ট যেন ঋণ ও সামাজিক প্রথার বেড়াজালে তাদের তাড়া করছে।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর


