ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যেক উপদেষ্টা নিজের আখের গোছানোর কাজ করে রেখেছেন, কিন্তু শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের মুখে শুধু একটাই কথা “টাকা নেই”, এমন অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।
রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে একাত্মতা জানিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সামান্তা শারমিন বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যেক উপদেষ্টা এখন নিজের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত। অথচ এই সরকারকে দেশের ছাত্র-জনতা, শিক্ষক-চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে। কিন্তু এখন খবর পাওয়া যাচ্ছে, তারা ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য গাড়ি কিনছেন, অথচ শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রশ্নে বলে সরকারের টাকা নেই।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এতো আশা নিয়ে আমরা এই ইন্টেরিম গভর্নমেন্টকে বসিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আজ দেশের মানুষের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গেছেন, বিশেষ করে শিক্ষার বিপক্ষে।”
শিক্ষা কমিশন না গঠনের সমালোচনা করে সামান্তা শারমিন বলেন, “কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর গণঅভ্যুত্থানের ঢেউ উঠেছিল। তখন আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটি শিক্ষা কমিশন গঠিত হবে। শেখ হাসিনার সময় শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, আর সেটি ঠেকানোর দায়িত্ব ছিল এই সরকারের।”
তিনি আরও বলেন, “দেশকে নির্বাচনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, অথচ শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গণহত্যার মতোই ভয়াবহ হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থার ধ্বংস—যা করা হচ্ছে শিক্ষকদের অবমূল্যায়নের মধ্য দিয়ে।”
বর্তমান শিক্ষা উপদেষ্টার সমালোচনা করে সামান্তা শারমিন বলেন, “তিনি নিজে শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকদের দুরবস্থা বোঝার চেষ্টা করেননি। ‘মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি’র পর তার আচরণে সেটা স্পষ্ট। অভিযোগ আছে, তিনি কাউকেই সময় দিতে চান না। অথচ গণঅভ্যুত্থনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের উপদেষ্টাদের সবসময় মানুষের জন্য অ্যাভেইলঅ্যাবল থাকা উচিত।”
এনসিপি শিক্ষকদের পাশে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, “২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা আর ৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা বাড়ানো যাচ্ছে না এটা লজ্জাজনক। আর এই দাবি জানাতে ঢাকায় এসে শিক্ষকদের মারধর করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যা মেনে নেওয়া হবে না।”
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, এবং যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির প্রমুখ।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। দুপুরে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে সচিবালয়ে গিয়ে বৈঠক করেন।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর


