ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: সিলেটের পর এবার চট্টগ্রামে র্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও থানার নুরনগর হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার সমমূল্যের জাল দুবাই দিরহাম, সৌদি রিয়াল, মার্কিন ডলার, ইউরো ও বাংলাদেশি টাকা উদ্ধার করেছে র্যাব। এ সময় তামজিদ নামে এক যুবককে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে র্যাব-৭ এর একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জাল মুদ্রার পাশাপাশি ৭টি মোবাইল ফোন, ৭টি ক্রেডিট কার্ড, একটি ল্যাপটপ ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক মো. হাফিজুর রহমান জানান, উদ্ধার করা কিছু নোটে ‘শুটিং’ শব্দ লেখা থাকলেও অনেক নোটে তা ছিল না। তিনি বলেন,
> “বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ শুটিং বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যেই জাল নোট তৈরি করতে পারে না। এটি সম্পূর্ণভাবে আইনবিরুদ্ধ।”
অভিযুক্ত তামজিদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, এসব জাল নোট আন্দরকিল্লার অংকুর প্রিন্টার্সে তৈরি করা হতো। পরে দারাজ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি করত তারা। সে দাবি করে, নোটগুলো মূলত শুটিং সেটে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হলেও, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাজারে ছাড়ার কাজও চলছিল। গত চার মাস ধরে এ চক্রটি সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছে র্যাব।
এর আগে, সোমবার রাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় র্যাবের আরেকটি অভিযানে প্রায় ১ কোটি টাকার জাল নোট, ৮ রাউন্ড গুলি ও ৫টি নকল বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোক্তাদির আলী ওরফে রিপন (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, সিলেটে ধরা পড়া সিন্ডিকেট সদস্যের তথ্যের ভিত্তিতেই চট্টগ্রামে অভিযান চালানো হয়। হাফিজুর রহমান বলেন,
> “সিলেটের সিন্ডিকেট সদস্যরা জানিয়েছিল, চট্টগ্রামেও তাদের সদস্য রয়েছে। আমরা আগে থেকেই টেকনিক্যালি এ চক্রকে নজরে রেখেছিলাম। দেখা গেছে, তারা মূলত উচ্চমূল্যের নোটগুলো জাল করেছে। একটি ইউরো বাজারে চালাতে পারলে তারা অনেক টাকা পেয়ে যায়।”
আটক তামজিদকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনবোধে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন করবেন বলে জানিয়েছে র্যাব।


