ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় ক্যাম্পাস ছিল ক্ষমতাসীন দল ও প্রভাবশালী ছাত্রসংগঠনের নিয়ন্ত্রণে, যেখানে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের বদলে সংঘর্ষ ও আধিপত্যের রাজনীতি চালু ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫৯ বছরে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়বার হয়েছে চাকসু নির্বাচন—১৯৭০, ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৭৯, ১৯৮১ ও ১৯৯০ সালে। নব্বইয়ের পর আর নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্ররাজনীতি ধীরে ধীরে চলে যায় সরকারি দলের কবজায়। আশির দশক থেকে ক্যাম্পাসে দাপট দেখিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির, আর গত এক দশক ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণ করেছে ক্যাম্পাস। আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১৯৯৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে খুন হয়েছেন ১৫ জন শিক্ষার্থী।
এবারের নির্বাচনে ভোটার ২৭ হাজার ৫১৬ জন, এর মধ্যে ছাত্রী ১১ হাজার ১৫৬ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১৫ প্রার্থী। ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলে লড়ছেন আরও ৪৯৩ জন প্রার্থী। ভিপি পদে ২৪ জন, জিএস পদে ২২ জন ও সহ-জিএস পদে ২২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চাকসু নির্বাচনে মোট ১৩টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ছাত্রদলের প্যানেল, ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’, ‘দ্রোহ পর্ষদ’ এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য’। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে শিবির-সমর্থিত ও প্রগতিশীল জোটের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকের আশা, নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত নেতৃত্ব বিকাশের পথ আবার উন্মুক্ত হবে।
@ইয়াসমিন রিমা,ভেতরের খবর


