ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথে প্রধান তিন ইস্যু আইনি ভিত্তি, গণভোটের সময় নির্ধারণ ও ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতপার্থক্য কাটেনি। সনদ বাস্তবায়নে এখন সবার দৃষ্টি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের দিকে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ জমা দেওয়া হবে। ২৪ অক্টোবরের মধ্যে এই সুপারিশ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কমিশনের মেয়াদ আছে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
এদিকে, কমিশনের বিশেষজ্ঞ কমিটি ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান) আদেশ’ নামের একটি বিশেষ আদেশের খসড়া প্রণয়নে কাজ করছে। এই আদেশের মাধ্যমে গণভোট আয়োজন ও আগামী জাতীয় সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও সংসদ পালনের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব উঠতে পারে।
কমিশন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুপারিশ যাই হোক না কেন, তাতে সব দল সন্তুষ্ট হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত সনদ বাস্তবায়নে সরকারকেই মূল ভূমিকা নিতে হবে।
জুলাই জাতীয় সনদে ইতিমধ্যে ২৪টি দল ও জোট স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু আইনি ভিত্তির প্রশ্নে এনসিপি এবং আরও চারটি বাম দল এখনো সই করেনি। এনসিপি বলছে, কমিশনের সুপারিশ দেখেই তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা সাতটি দল নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তারা বলছে, গণভোট আগে হওয়া উচিত, কারণ অতীতে ১৭–২১ দিনের মধ্যেই গণভোট আয়োজনের নজির আছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ না আসা পর্যন্ত তাদের মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
অন্যদিকে সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ সোমবার কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে জানিয়েছে, সংবিধানে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি ও ক্রান্তিকালীন বিধান সংশোধনে অঙ্গীকার না থাকলে তারা সনদে স্বাক্ষর করবে না।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও প্রস্তাবের ভিত্তিতে এমন একটি সুপারিশ তৈরি করা হবে, যাতে সরকার বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।”
রাজনৈতিক মহল বলছে, কমিশনের আসন্ন সুপারিশই নির্ধারণ করবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর


