ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: আসন্ন নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ প্রায় শেষ হলেও মাধ্যমিক স্তরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সংকট। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরের অর্ধেকের বেশি বই ইতিমধ্যেই মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হলেও মাধ্যমিকের কোনো বই এখনো পৌঁছায়নি।
ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপার কার্যাদেশ এখনো দেওয়া হয়নি। নবম শ্রেণির বই ছাপার বিষয়ে সম্প্রতি মুদ্রণকারীদের সঙ্গে চুক্তি শুরু হয়েছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এ অবস্থায় জানুয়ারির শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
গত বছর বই সরবরাহে দীর্ঘ দেরির কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি। এবারও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এনসিটিবির তথ্যমতে, প্রাথমিক স্তরের মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ বইয়ের মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ কোটি ৬৫ লাখের বেশি ছাপা ও বাইন্ডিং সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৫১ লাখ বই সরবরাহ-পূর্ব পরিদর্শন (পিডিআই) শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে ৪ কোটি ৮৫ লাখের বেশি।
অন্যদিকে মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বই ছাপার দরপত্র সেপ্টেম্বর মাসে বাতিল হওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বান ও যাচাই-বাছাইয়ে সময় লেগেছে। এখনো কার্যাদেশ ও চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায় জানুয়ারিতে বই বিতরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
নবম শ্রেণির ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি বই ছাপার চুক্তি হচ্ছে নভেম্বরের শুরুতে। নিয়ম অনুযায়ী চুক্তির পর ৬০ দিনের মধ্যে বই সরবরাহের কথা থাকলেও সময় ঘনিয়ে আসায় তা সময়মতো শেষ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এনসিটিবির বিদায়ী চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “নবম শ্রেণির বই ছাপার কাজ চলছে, আর ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপার কার্যাদেশ দু-এক দিনের মধ্যেই দেওয়া হবে। প্রাথমিক স্তরে অগ্রগতি সন্তোষজনক, আমরা চেষ্টা করছি বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দিতে।”
@ইয়াসমিন রিমা