“Story In Sadness of Bangla A
Nation Between Power & Humanity”
👉 এইসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা কখনোই জনমনে সত্যিকারের আতঙ্ক সৃষ্টি করে না; বরং প্রমাণ করে দেয় আমরা কতটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে। শহরের গাড়ির টায়ারের চিৎকারও আজ আর কাউকে চমকে দেয় না। প্রতিটি ঘটনার ভেতর দিয়ে বারবার ফুটে ওঠে—ক্ষমতার লোভে অন্ধ এক গোষ্ঠী কিভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলগুলোকে জোটবদ্ধ করে অপপ্রচার, গুজব আর বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।
এরা মানুষ নয়, হিংস্র ক্ষমতালোভী দানব। মাংসাশী, রক্তপিপাসু মানবতার মুখোশে জন্ম নেওয়া ভয়ংকর প্রাণী। রাজা-মহারাজার উত্তরসূরি সেজে ইতিহাসের মঞ্চে এরা মহামানবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। অথচ এদের চোখে মনুষ্যত্বের আলো এতটাই নিভে গেছে যে, জাহান্নামের আগুনে পোড়ালেও কিংবা সহস্র জ্ঞানী সত্য ব্যাখ্যা করলেও তারা অন্ধই থেকে যাবে।
অর্থ ও ক্ষমতাকে এরা ঈশ্বরের আসনে বসিয়েছে। নিজের বিশ্বাসকে বিকৃত করে, পাগলামিকে নীতি বানিয়ে, নির্মমতাকে গর্বের প্রতীক করে তুলেছে। নিজেদের উন্মাদ, নৃশংস আর দুর্বৃত্ত বলে পরিচয় দিতেও এদের কোনো সংকোচ নেই কারণ এই অসভ্যতাটাই এখন তাদের স্বাভাবিকতা।
যে সত্যিই এই দেশকে ভালোবাসে, সে জানে বাংলার মাটিতে আর এক ফোঁটা নিরপরাধ রক্ত ঝরার অধিকার কারো নেই। রক্তের নেশায় উন্মত্তদের এই উল্লাস বন্ধ হতেই হবে।
দীর্ঘ ক্ষমতালিপ্সা, দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং আর মেগা প্রকল্পের নামে প্রতারণায় নিমগ্ন সেই প্রাক্তন শাসক আজ বিভ্রমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেন চিরকাল বাংলার একচ্ছত্র শাসক হওয়াই তার নিয়তি ছিল। বিদেশি প্রভাব ও ছায়া-শক্তির মদদে গড়া সেই সাম্রাজ্য এখন ভেঙে পড়েছে নিজস্ব মিথ্যার ভারেই।
আজও মিথ্যা প্রচারণা, AI-নির্ভর বিভ্রান্তি আর ভুয়া কণ্ঠের মাধ্যমে জাতিকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাংলাদেশ আর অন্ধ নয়। মুখোশের আড়ালের আসল মুখ আমরা এখন স্পষ্ট দেখি।
একবার সেই বৃদ্ধা মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে—যিনি কি না এত মৃত্যুর পরও একবারও সন্তানহারা মায়ের কান্না শুনতে পান না! ইতিহাসের পাতায়, প্রতিটি ভাঁজে, তাদের অশ্রুর দাগ জ্বলজ্বল করছে।
ক্ষমতা হারানোর যন্ত্রণা যে বিষের মতো ধীরে ধীরে মনুষ্যত্বকে গ্রাস করে নেয় তা আমরা প্রত্যক্ষ করছি। যুক্তিহীন আবেগ, প্রতিহিংসা, আর অন্ধ অহংকারে আজও যারা বিভোর, তারা ভুলে গেছে একটি জাতিকে অশিক্ষা আর ভয়ে বন্দি রাখা মানে স্বাধীনতাকে শিকল পরানো।
এই বর্বরতার কোনো স্থান নেই বাংলাদেশে। এই মাটির প্রতিটি কণায় শহীদের রক্ত লেগে আছে—আমাদের সোনার তরুণ প্রজন্মের, হীরের টুকরো সব মুখের রক্তে রাঙা।
স্বৈরাচারের কোনো স্থান এখানে নেই—হোক সে অভ্যন্তরীণ বা সীমান্তের ওপার থেকে আগত।
একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায় এই হাসিনার ভেতরটা শূন্য হয়ে গেছে। সব পুড়ে ছাই, সব ধ্বংস। যারা এখনো তার ছায়ায় স্বপ্ন দেখে, নির্দেশ পালন করে, তারা বুঝতে পারে না যে এটি এক ভিন্ন উদ্দেশ্যের খেলা একটা জাতিকে বিভক্ত রাখার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।
সময়ই সব বলবে যেদিন ধর্ম, মানবতা ও স্বাধীনতার নামেই নতুন সূর্য উঠবে, সেদিন এই মিথ্যার দুর্গ ভেঙে পড়বে।
হ্যাঁ, দক্ষিণ এশিয়ার বড় শক্তিগুলো হয়তো তাদের স্বার্থের খেলা চালিয়ে যাবে; কিন্তু বাংলাদেশকে আর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। আমাদের ইতিহাসে লজ্জার নতুন অধ্যায় লেখা হবে না। হতে দেওয়া হবে না।
যতদিন শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকবে, স্রষ্টার কৃপায় আমরা শপথ করছি বাংলাদেশকে আর কোনো স্বৈরাচার গ্রাস করতে পারবে না।
আমরা প্রতিহিংসায় নয়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধায় বিশ্বাস করি। অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা ন্যায়ের শপথ নেই, ভালোবাসাকে অস্ত্র করি।
ইতিহাসের পাতায় এই নিষ্ঠুরতার আর্তনাদ চিরকাল থাকবে যতদিন ক্ষমতার লালসা ও লজ্জার ভারে জাতি বারবার নত হবে। কিন্তু এই লজ্জা একদিন মুক্তির পথ দেখাবে এটাই সময়ের শিক্ষা।
আজও আমরা সেই নির্মম ইতিহাসের ছায়ায় হাঁটছি। যতদিন না জাতি জেগে উঠবে, এই বিষাদ ঘনীভূত হবে আরও। তাই এখনই সময়, শিকড় উপড়ে ফেলা যারা এখনো মনের ভেতর বিষ বয়ে বেড়ায়, তাদের নির্মূল করতে হবে মানবতার তরে।
এই পৃথিবীতে যখন দরিদ্র মানুষগুলো এখনো অন্ধকারে ডুবে আছে, তখনো অনেকেই ঘুমিয়ে আছে—ফেসবুকের কৃত্রিম আলোয়, ভুয়া জ্ঞানের মোহে, মিথ্যার নাটকে। কোনো সত্য বার্তা এখনো পৌঁছেনি, কোনো জাগরণ এখনো হয়নি।
কিন্তু আসবে জাগরণ আসবেই।
যেদিন আসবে, সেদিন বাংলাদেশ আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে।
– রাশিদুল হাসান সুজন
Rashidul Hasan Suzan
প্রধান সম্পাদক(ভেতরের খবর )


